সময়টা ১৯৭৭ সাল। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় আসে সিপিএম তথা বামরা। তার আগে ১৯৭২ সালের বিধান সভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ব্যাপক রিগিং, সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠেছিল। রাজ্যে বামরা ক্ষমতায় আসতেই মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভেঙে যায়। চতুর্দিকে দেয়ালে ছড়া লেখা শুরু হয়, বাহাত্তর নয় সাতাত্তর সাল, লাল বাংলা লালে লাল। তারপর যত দিন গড়িয়েছে, বামদের অবস্থা রাজ্যে আরো মজবুত হয়েছে। বামদের লাল পতাকা পতপত করে উড়েছে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে। বাম নেতা-কর্মীরা বলতেন, রেড কখনও ফেড হয় না। সত্যিই, লাল রং ফিকে হবার সামান্যটুকু সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু এসব আজ অতীত ইতিহাস। একুশের নির্বাচনের ফলাফল বলছে বামদের কার্যত বিসর্জন হয়ে গেল।

একুশে মেরুকরণের নির্বাচন হবে, সেটা আগেই বুঝা গিয়েছিল। কিন্তু বামরা একটি আসনেও জিততে পারবে না, প্রায় প্রত্যেকটি কেন্দ্রে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে, এতটা কেউ ভাবতে পারেননি। কংগ্রেসের অবস্থাও তথৈবচ। তারাও এবার খাতা খুলতে পারেনি। ফলাফলের পরেই উত্তর দমদমের সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্য একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন আলিমুদ্দিনের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। এ হারের দায় তাদের নিতে হবে, জোরের সাথে দাবি করেছেন তিনি। এমনকী নাম না করে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুহাম্মদ সেলিমকে ব্যাপক নিশানা করেছেন।

সময়টা ১৯৭৭ সাল। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় আসে সিপিএম তথা বামরা। তার আগে ১৯৭২ সালের বিধান সভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ব্যাপক রিগিং, সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠেছিল। রাজ্যে বামরা ক্ষমতায় আসতেই মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভেঙে যায়। চতুর্দিকে দেয়ালে ছড়া লেখা শুরু হয়, বাহাত্তর নয় সাতাত্তর সাল, লাল বাংলা লালে লাল। তারপর যত দিন গড়িয়েছে, বামদের অবস্থা রাজ্যে আরো মজবুত হয়েছে। বামদের লাল পতাকা পতপত করে উড়েছে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে। বাম নেতা-কর্মীরা বলতেন, রেড কখনও ফেড হয় না। সত্যিই, লাল রং ফিকে হবার সামান্যটুকু সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু এসব আজ অতীত ইতিহাস। একুশের নির্বাচনের ফলাফল বলছে বামদের কার্যত বিসর্জন হয়ে গেল।

উল্লেখ্য সেলিমের উদ্যোগে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর আইএসএফের সাথে জোট হয় বামদের। কেন বামরা ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’র সাথে হাত মেলাল এ অভিযোগ তখন থেকেই ওঠতে শুরু করে। এর পাশাপাশি কংগ্রেসের সাথেও জোট নিয়ে সবাই খুশি ছিলেন না। অথচ করোনা মহামারী কালে বাম ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রচুর কাজ করেছেন, এখনো করে চলেছেন। পাহাড় থেকে সমুদ্র, নীরবে কাজ করে চলেছেন রেড ভলান্টিয়াররা। কিন্তু বাংলার তৃণমূল বিরোধী মানুষ বামদের ভোট দেননি একটাই কারণে তাদের জেতার সম্ভাবনা নেই দেখে। তাই বাম ব্রিগেডের উজ্জ্বল মুখ সুজন চক্রবর্তী, অশোক ভট্টাচার্য, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, ঐশী ঘোষ, সৃজন ভট্টাচার্য, আলি ইমরান ভিক্টর, দীপ্সিতা ধররা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়েছেন।

আলিমুদ্দিন মনে করেছিলেন, আব্বাসের সাথে জোটের ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট তারা আবার ফিরে পাবেন। কিন্তু সে ভোট ফেরা তো দূরের কথা উল্টে হিন্দুদের যে অংশের ভোট তারা গত লোক সভাতেও পেয়েছেন, সেটার বড় অংশ এবার হারাতে হয়েছে আব্বাসের সাথে জোট গঠনের কারণে। বামদের ব্রিগেড সমাবেশে প্রচুর ভিড় হয়েছিল। কিন্তু বামদের বেশির ভাগ সমর্থক মনে করেছেন তৃণমূলকে হারাতে পারে বিজেপি। তাই ভোট তারা বিজেপিকেই দিয়েছেন। নির্বাচনের ফল বলছে অদূর ভবিষ্যতে বামদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কারণ যত দিন যাবে ততই ধর্মীয় মেরুকরণ রাজ্যে আরো প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। যেটা বঙ্গ রাজনীতিতে অতীতে দেখা যায়নি। ঠিক এ কারণেই মালদা এবং মুর্শিদাবাদে একটি আসনও জিততে পারেনি কংগ্রেস এবং বামরা। সেখানকার হিন্দু ভোটের প্রায় পুরোটাই চলে গিয়েছে বিজেপির দিকে।

বামদের ব্যাখ্যা ছিল, এভাবে নতুন প্রজন্মকে কাছে টানার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই কাজ হল না। গত ৪০ বছরে কেরলে কোনও সরকার পরপর দু’বার ক্ষমতায় আসেনি। এবার কিন্তু সেখানে বামদের প্রত্যাবর্তন হয়েছে। আবার ক্ষমতায় ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। ঠিক সেদিনই পশ্চিমবঙ্গে বামদের একপ্রকার বিসর্জন হয়ে গেল। তারা টানা ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গে সরকার চালিয়েছে। এবারের ফল দেখলে সেটা যেন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। তাই এটা বলতেই হবে এখন লাল শুধু ফিকে নয়-একপ্রকার মুছেই গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে।

সূত্র: প্রথম কলকাতা