কিছুদিন আগেই ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছিলেন, করোনা সংক্রমণ রুখে দিতে পারে নিকোটিন! শুধু তাই নয় এ ভাইরাসকে সম্পূর্ণ রূপে বিনষ্ট করার ক্ষমতাও রয়েছে এ উপাদানে। এবার করোনার প্রতিষেধক তৈরি করে ফেলল দুনিয়ার অন্যতম সিগারেট প্রস্তুতকারী সংস্থা ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো। মানুষের শরীরে এ প্রতিষেধকের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্যেও তৈরি তারা, এমনটাই দাবি ওই সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত বিজ্ঞানীরা।
শুক্রবার নামী এ সিগারেট প্রস্তুতকারী সংস্থা জানিয়েছে, এর আগের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আশানুরূপ ফল মিলেছে। এবার অপেক্ষা মানুষের শরীরে এ প্রতিষেধকের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল জেনে নেয়ার। সংস্থা জানিয়েছে, আপাতত মানুষের শরীরে এ প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন তারা।
এ দিকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে নামী ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকা। জুনের শুরুতেই মানুষের শরীরে তাদের তৈরি প্রতিষেধকের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল জানা যাবে। এ পরীক্ষা যদি সফল হয়, তাহলে তার পরই প্রতিষেধক তৈরির কাজ শুরু করবে এ সংস্থা।
অন্য দিকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিষেধক তৈরির ক্ষেত্রে সাফল্যে পথে আরও একধাপ এগুলেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পাশাপাশি বানরের ওপরেও করোনার টিকা পরীক্ষা করে দেখেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা! এর উদ্দেশ্য হল, এ প্রতিষেধকটির প্রয়োগে শরীরে কোনও রকম ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয় কিনা, তা দেখে নেয়া।
দেখা গিয়েছে, ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে এ প্রতিষেধকটি (ChAdOx1 nCoV-19)। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, এ প্রতিষেধকটির প্রয়োগে ওই বানরদের শরীরে কোনও ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলেই জানিয়েছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক দল। এর ফলে মানুষের ওপরেও এ প্রতিষেধকটি প্রয়োগের ভরসা পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
সব মিলিয়ে করোনা রুখতে জোর কদমে চেষ্টা চালাচ্ছেন দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীরা। ধাপে ধাপে সাফলের দিকে এগুচ্ছেন তারা। ফলে করোনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছেনআশার আলো দেখছেন চিকিৎসক থেকে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ।